ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ আর্কাইভ
হোম  »  বাংলাদেশ

শহরের মধ্যপাড়ায় অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের ভিন্ন সুর!

শহরের মধ্যপাড়ায় অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের ভিন্ন সু

কামাল আহমেদের লিখিত অভিযোগটি পৌর হিমাগারে!


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। নিয়ম কানুন তোয়াক্কা না করে একের পর এক ভবন নির্মাণ করছে বাড়ির মালিকেরা। এসব বিষয়ে পৌরসভার নিয়ম কানুন থাকলেও কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা না থাকার কারণে শহরের অলিতে গলিতে আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত বেড়ে উঠছে অবৈধ বহুতল ভবন।

মহল্লার মূল সড়ক থেকে ৫ থেকে ৭ ফুট প্রশস্ত গলির ভিতরে যেখানে তিনতলার উঁচু ভবন নির্মাণ করার সুযোগ নেই। সেখানে পৌর কর্তৃপক্ষের খেয়ালিপনায় অথবা তাদের ইশারায় ভবন নির্মাতারা অবৈধভাবে পাঁচতলা থেকে সাততলা কিংবা আটতলার মত বহুতল ভবনও নির্মাণ করছে। নিশ্চিত করে বলা যায়, সেসব অবৈধ বহুতল ভবনে দুর্ঘটনা ঘটলে কোন এম্বুলেন্স অথবা অগ্নি নির্বাপনের গাড়িও ঢুকার রাস্তা নেই। এমন কি এসব অবৈধ বহুতল ভবনে পার্কিং ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।


এমনই এক অভিযোগ জমা পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মধ্যপাড়ার কয়েকটি ভবন মালিকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগটি দায়ের করেন মধ্যপাড়ার কামাল আহমেদ নামের একজন সচেতন বাসিন্দা।
তিনি গত জুন মাসের ২২ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে মধ্যপাড়া মহল্লায় চারটি অবৈধ বহুতল ভবন উল্লেখ করেন। ১, সালাম মিয়ার ভবন ৬ ফুট রাস্তার ভিতরে ৬তলা ভবন নির্মিয়মান। ২. হোসেন চেয়ারম্যানের ছেলের ভবন ৭ ফুট রাস্তার ভিতরে ৮তলা ভবন নির্মিয়মান। ৩. রনি ডেভেলপার নির্মিত ৬ ফুট রাস্তার ভিতরে ৮তলা ভবন নির্মিয়মান এবং ৪. মধ্যপাড়া জুবিলী রোড বাঘা মৌলভীর মসজিদের দক্ষিণের ৫ ফুট রাস্তার ভিতরে শাহ আলমের নির্মাধীন ৬তলা ভবন।

অবৈধ বহুতল ভবনের মালিকেরা ভবন নির্মাণে তাদের কোন অংশেই জায়গা ছাড়েনি যার ফলে অবৈধ বহুতল ভবনের সামনেয় অংশে রিকশা অথবা জন-যাতায়াতে হরহামেশাই জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগকারী কামাল আহমেদ বলেন, এসব অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের শুরুতে অসংখ্যবার মৌখিক অভিযোগ করেছি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাউছার আহমেদের কাছে যার কোন সুরাহা এখনো পাইনি। উপরন্তু তিনি সাবলীলভাবে দায়িত্বরত পৌর কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। একজন অন্যজনের ওপর দোষ চাপানোর ফলে নির্মাণাধীন অবৈধ ভবনের মালিকেরা দিনে রাতে মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। হয়তো পৌর কর্তৃপক্ষ খামখেয়ালী করছে আর না হয় মোটা অংকের অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেই পৌর কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। দীর্ঘ ছয় মাস পূর্ব থেকে মৌখিক অভিযোগ করা হলেও অবৈধ ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে পৌরসভার কোন পদক্ষেপই নিতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। তাই সেসব অবৈধ বহুতল ভবনের মালিকেরা নির্বিঘেœ অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে।

মধ্যপাড়া জুবলী রোডে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক শাহ আলম বলেন, আমাকে ৫তলা ভবন নির্মাণ করার জন্য পৌরসভা অনুমোদন দিয়েছে। তার কাছে লিখিত অনুমোদনপত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি।
অন্য দুটি ভবনের মালিক সালাম মিয়া ও হোসেন চেয়ারম্যানের ছেলে সোহেল মিয়ার সাথে কথা বললে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।
শহরে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করছে মালিকেরা যা আপানারা দেখেও না দেখার ভান করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস আরাকে এমন প্রশ্ন করলে এর উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, আমার স্টাফগুলো খারাপ, ওরা আমাকে কিছুই জানায় না। আমার কথা কেউ শুনেনা। আমার কোন মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নাই। সমাধানের কথা বললে তিনি নিরবতা পালন করে ভবন মালিকদের মত এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শংকর দাস কথা বলতে রাজি নয়।

তাহলে কি সচেতন নাগরিক কামাল আহমেদের লিখিত অভিযোগটি পৌর হিমাগারে থেকে যাবে?